মাগুরা জেলার শ্রীপুরে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং সেই অপরাধের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার এক নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানা এলাকার বাসিন্দা মো. সৌরভ (২১), অনিক (১৯), রানা বিশ্বাস (২০), নয়ন শেখ (১৯) এবং মো. হুসাইন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার ও মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, আসামিরা ওই স্কুলছাত্রীকে কৌশলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। পাশবিক এই নির্যাতনের সময় আসামিরা মোবাইল ফোনে পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্র ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে এই ঘটনা কাউকে জানালে বা আইনের আশ্রয় নিলে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার (ভাইরাল) হুমকি দেওয়া হয়। আসামিদের এমন ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং লোকলজ্জার আশঙ্কায় নির্যাতিতা কিশোরীটি শুরুতে বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখতে বাধ্য হয়।
তবে ঘটনার মোড় ঘোরে গত ১৯ মে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে। ভুক্তভোগী ছাত্রীর খালু স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে থাকার সময় দেখতে পান, এলাকার কিছু মানুষের মোবাইল ফোনে ফেসবুক, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওই ধর্ষণের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে অবহিত করেন। পরে কিশোরীর মা তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং নিজের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের পুরো বিবরণ দেয়।
ভয়াবহ এই ঘটনার বিস্তারিত জানার পর, ভুক্তভোগীর পরিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ২২ মে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় উল্লিখিত পাঁচজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. আতাউর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তৎপরতা শুরু করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতদের ইতিমধ্যেই মাগুরা জেলা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে আর কোনো দিক রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।